Posts

Showing posts from November, 2021

দু' লাইনে তোমাকে (২)

চোখের কথায় ভুলতে বসি দিন, গতরাতের কুয়াশা ঘিরে ধরে, ঠাণ্ডা হাওয়ায় মনের ঘরে ঝিম, তোমার নামে শিশির ঝরে পড়ে। 

দু' লাইনে তোমাকে (১)

নেহাত আমি দূরেই থাকি, ঝড়ের রাতে থাকছি না, ঘড়ির কাঁটা পেলেই মুঠোয় আর তোমাকে ছাড়ছি না। 

ছেলে (মানুষ)

তোমার হাসতে ভালো লাগে,  বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে, হতাশ হলে আইসক্রিম হাতে জানালার বাইরে  দেখতে ভালো লাগে। তোমার লিখতে ভালো লাগে, গান গাইতে ভালো লাগে, নাচতে ভালো লাগে, আঁকতেও ভালো লাগে। কখনও আবার, মুখ বুজে বড় হয়ে যাওয়া লোকের মতো কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে ভালো লাগে। এই শেষ কাজটা ভালো লাগে আদৌ? আমি জানি, তোমার ভালো লাগে না। তোমাকে বাধ‍্য করা হয় ― সংসারের দায়িত্ববান পুরুষ হতে, পরিবারের অন্ন সংস্থান করতে, নিজের ভালো লাগাগুলোকে কবর দিয়ে অন‍্যের স্বপ্নকে জ‍্যান্ত করে তুলতে।  কুঁচকে থাকা শার্টের বোতাম লাগানো থেকে জুতোর ফিতে বাঁধা পর্যন্ত, ক্রিকেট, কবিতা, হজমি গুলি ছুঁড়ে ফেলে  পড়ার বইয়ের পাতা ওলটানো পর্যন্ত ― তোমাকে শেখানো হয় এটিকেট, শিভ‍্যালরি, বিহেইভিরাল অ্যাপ্রোচ। তুমি বড় হতে চাও না, তোমার ইচ্ছা করে পর্দার আড়ালে ডুকরে কেঁদে উঠতে, মায়ের আঁচলের ওমে লুকিয়ে থাকতে, বাবার কোলে বসে রঙিন পৃথিবীর গল্প শুনতে।  তোমার মনে পড়ে, তুমি কোনোদিন বড় হওনি। তুমি চিৎকার করে বলো ― "আমি পালাতে চাই!" সবাই ধমক দিয়ে চুপ থাকতে বলে তোমাকে ― "আহ্! ছেলেমানুষি কোরো না।" খাঁচার দরজা বন্ধ করে তুমি কা...

ছদ্মবেশ

আজকে বরং তোমার কথা বলো ― কেমন আছো? কোথায় থাকো এখন? চাকরি, জীবন, নতুন গল্প কিছু? ফুলে, পাতায় ভরিয়ে তোলো মন? অ্যাশট্রেটাকে যত্ন করেই রাখো, শোকেস জুড়ে নানা রঙের ঘর; লাল দেওয়ালে ঝুলের আনাগোনা, ঘুমিয়ে পড়ো চোখ বুজলেই পর? তরকারিতে ঝালের দরজা বন্ধ, বইপাড়াতে হত‍্যে দিয়ে থাকো? এখনও কি আড্ডা দিতে যাও? সময় ভুলে ঘড়ি উলটে রাখো? জানি, তুমি আজও আছো এক, আমিই শুধু বদলে গেছি, জানো? চশমার এই ঝাপসা কাঁচে আর পাইনি দেখা তোমার কোনোদিনও। সেদিন থেকে খোঁজা আমার শুরু, বৃষ্টি দেখে দরজা আগলে থাকি, বুকে তোমার শেষ শব্দ বাজে ― বলেছিলে, " আসব সেজে পাখি!"

ছায়া

Image
ছায়া ছায়া হয়ে এই থেকে যাওয়া, অবিকল আমাদের মন ফিরে পাওয়া; আলো-আঁধারীর গানে হাসি ধরে রাখা, ধুলো মেখে অতীতের ছবি নিতে চাওয়া! Photo was captured by Rajat Subhra Karmakar. 

Bass, yehin tak..

Bass, yehin tak humara chalna tyar tha samjho, Aage aur gaheriyaan hain, usse par karna  kisi ek ke bass mein hain.  Kisi ke shakal pe mat jana,  Kisi ka likhawat se chauk mat jana, Aankhon mein dub kar tairna sikho ― Phir dekhna suraj tumhari dil se uthega, Dil ki samundar mein hi dubega, Samay rok lega tumhe, aur tum tumhari tanhayi ko. Khush rehna kisse kehte hain?  Tum samajh jaoge apne aap. Bass, yehi tak tumhe khush rakhna tha mujhe, Aage duniya khara hain tumhe rulane ke liye,  Tum usse hasna sikha dena. 

পরিচালক

চলছে লড়াই, লড়াই বাঁচার, কাজের ফাঁকে স্বপ্ন দেখার, নেশার ঘোরে থমকে থাকার, নিষ্পাপদের রক্ষা করার, হাসার লড়াই, কাঁদার লড়াই, চলছে লড়াই, লড়ার লড়াই। চলছে লড়াই লুকিয়ে থাকার,  অন‍্যায়কে কবর দেওয়ার, হারতে গিয়েও আবার জেতার, তোমার আমার চলছে লড়াই,  শুধু ভালো থাকার লড়াই। লড়াই সতের সঙ্গ ছাড়ার, ঘামের দামে মিথ‍্যে বেচার, সত্যি কথা গোপন রাখার, ধর্ম, জাতের চলছে লড়াই, নেপথ্যে নাম লেখার লড়াই। 

জীব ও জড়

তিন মাথার মোড়ে কংক্রিটের বাসস্ট্যান্ডের মৃত্যু হয়েছে! সকাল থেকে লাইন পড়ে গেছে মাল‍্যদানের জন্য।  কেউ চন্দন লাগিয়ে দিচ্ছেন শেষবারের মতো,  কেউ বা নতুন পোশাক পরাতে ব‍্যস্ত, কেউ নতমস্তকে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ প্রণাম করছেন! কিছু সংবাদ মাধ্যমকেও দেখা যাচ্ছে প্রতিবেদনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে ― "কখন, কীভাবে মৃত্যু? কোনো অস্বাভাবিকত্ব ছিল, নাকি, স্বাভাবিক বয়সজনিত মৃত্যু?" শহরের কুড়ি থেকে আশি - সকলেই জড়ো হয়েছে সেখানে! রাস্তায় জ‍্যাম, তাই, যানবাহন চলাচলের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে! কয়েকজন কান্না থামাতে পারছেন না,  কয়েকজন স্মৃতি রোমন্থন করেই চলেছেন, ফিসফিস করে কেউবা মৃত্যুর তদন্ত করছেন! ডাক্তার এসে ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে গেছেন।  হয়তো ময়নাতদন্ত হতে পারে,  নাহলে গোয়েন্দা এসে সবুজ সংকেত দিলে গুঁড়ো করে দেওয়া হবে তার কংক্রিটের শরীর।  এখানে লেখা হবে ― "যে এসেছিল আমাদের মাঝে,  থেকে যাবে আজীবন.."  কাগজে বেরোবে হয়তো এই মর্মান্তিক শোকসংবাদ! দূর থেকে এই ভীষণ গম্ভীর পরিস্থিতির মধ‍্যেও  একটা বছর এগারোর ছেলে একমনে খেলছে।  মাঝে মাঝে ভিড়ের দিকে হাত তুলে বলছে ― "গেল হপ্তায় বা...

কারণ, যদি না বলো..

কারণ, যদি না বলো, তোমার নামের অর্থ কী? আমি ধরে নেব, এই নামের কোনো অর্থ হয় না, হয় না ঐরকম অক্ষরের সমাহার, হয় না ওভাবে উচ্চারণ, এই নাম দেখা যায় না, স্পর্শ করা যায় হয়তো; ঝড়ের রাতে লন্ডভন্ড শহরের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকে তোমার নামের স্বরচিহ্নেরা!  গাড়িচাপা পড়া অসহায় মানুষের বোবা ছবির মতো, দূরপাল্লার ট্রেনের বেগে ধেয়ে আসা যুক্তির সরলরেখায়  শক্তি নিংড়াতে থাকে আধুনিক প্রযুক্তির সমাজ! ক‍্যালেন্ডারের পাতা ফুরিয়ে যাবে,  গাছের শেষ সবুজ পাতাটাও হারিয়ে যাবে, টলোমলো পায়ে চলা সারল্য ধূসর হয়ে মিলিয়ে যাবে সমান্তরাল জগতে ― তুমি যদি তোমার নামের মানে আজ না বলো, ইতিহাস হাসবে তোমাকে দেখে,  সবাই তোমার নাম দেবে ― "মিথ‍্যুক!"

তোর নামে চিরকুট

Image
যে মেয়েটা জড়িয়ে ধরে হাসে, কান্না পেলেও আঁকড়ে ধরে হাত, যে মেয়েটার মায়ায় ভরা চোখ গল্প বোনে কয়েকশো দিন-রাত! যে মেয়েটার রঙিন জামায় আকাশ, ঘোড়ার গাড়ি - রূপকথার এক দেশ ― সেই মেয়েটার কঠিন দিনের সূচি, আবদারেতেও নেইকো কোনো শেষ; সূর্য যখন অস্তাচলে যায়, যখন আবার ফেরায় আলো-ছায়া, চারিপাশে দিনেরবেলায় যা, তারই নাম জেনো, সে মেয়ে 'রায়া'। 

তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?

তুমি জানতে পারোনি কি নিপুণভাবে গড়েছে তোমায় সে, নাকের তিল, চোখের তারায় মায়া, কাঁধের পাশে টোলের আবির্ভাব ― জাদুদণ্ড বুলিয়ে সে তোমাকে নিজের মতো করে আকার দিয়েছে! তুমি টের পাওনি কীভাবে তোমার স্বরে মিষ্টতা দ্রবীভূত হয়েছে,  ভ্রু যুগলের কাছে আসা, দূরে যাওয়ার ব‍্যবধানে কাব‍্য লেখা হয়েছে; জলের মতো সহজ তোমার হাসি যত্নভাবে এঁকেছে সে! তুমি কোনোদিন বোঝোনি, ভাবোনি, জানতে চাওনি কে, বা, কারা তোমার জন্য বেঁচে থাকে, সুখে থাকে ― তোমার অস্তিত্বের গল্প বলে বেড়ায় সে সব পরিযায়ীরা! তুমি অন‍্য কারুর কথা ভেবে দিনাতিপাত করো, জানালার গ্রিল বেয়ে নামতে থাকা বৃষ্টি দিয়ে লেখো অন‍্য কারুর নাম! কিছুদিন পর, তোমার মনে ব‍্যথার ফাটল দেখা দেয়, চোখে জলধারা! এভাবেই সময় যায় - তুমি অন‍্য কারুর নাম লেখো, চুল ঘেঁটে মাতাল চোখে বাড়ি ফেরো; তবু, ভুলে যাও না তাদের নাম! ভুলে যায় না তোমাকেও কেউ! চিঠি আসে এক এক সকালে কোনো গুপ্ত ভালোবাসার মানুষের ― "তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা?" তুমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে চিঠি পুড়িয়ে ফেলো!

জীবন-সত‍্য ― ১

ব্লগ - ৪ কাল যা ছিল, আজ যা আছে, সবের মাঝে সত্যিটা লুকিয়েছিল তোমার মনেই, গভীর সে একরত্তিটা!

ভাইফোঁটা

ব্লগ : ৩ গুলতি লইয়া এক টিপে দুটি পেয়ারা পাড়িয়া লইল অপু। আজ ভাইফোঁটা। দুর্গা দিদি ওকে ফোঁটা দিবে। লুকাইয়া দেখিছে সে, দিদি কী সব বানাইতেছে অপুকে উপহার দিবে বলে। অপুরও দিতে ইচ্ছা হইছে তাই। পেয়ারা দুখানি কোঁচরে ফেলিয়া বাঁশবাগানের দিকে ছুটিল। কয়েকটা চ‍্যাপটা আকারের পাথর কোঁচরে ভরে নিল। "এবার বাড়ি যাই, দিদি হয়তো খুঁজছে", মনে মনে বিড়বিড় করিতে করিতে অপু বাড়ির পথ ধরিল। উঠোন পেরোতে না পেরোতেই বুঝিল অতি সুস্বাদু কিছু রান্না হইতেছে। রান্নাঘরে মুখ বাড়াইতেই দুর্গা 'হাঁ হাঁ' করিয়া উঠিল, "খবরদার এখানে আসবিনে অপু। দাওয়ায় গিয়ে আসন নিয়ে বসগে যা।" ছেলে, মেয়ের কাণ্ড দেখিয়া সর্বজয়া হাসিয়া লুটাইয়া পড়িল ― "উফ্! ভারি ভাইফোঁটা হচ্চে বটে তোদের! চল অপু, আমি আসন পেতে দিচ্চি।" অপু একগাল হাসিয়া দিদির কথা মতো আসনে বসিয়া পড়িল। দুর্গা রান্নাঘর হইতে থালা সাজাইয়া অপুর সামনে বসিল। থালার পাশে একখানি প্রদীপ জ্বালাইল‍, পাশে ধান, দূর্বা, চন্দন। অপু বিস্ময়ে দেখিল থালায় খানচারেক গোল গোল সাদা রঙের ফোলা কিছু খাবার, সঙ্গে আলুর চচ্চড়ি। এমন খাবার সে কখনও দেখে নাই। দুর্গা ভাইয়ের বিস্ময়ভাব লক্...

অতল সন্ধি

ব্লগ : ২ সূর্যটাকে সরিয়ে রেখে পাশে, আলতো হাতে ধরছি মেঘের ডানা; নিভৃতে প্রেম দুলছে যখন ঘাসে, পরাগ মেখে প্রজাপতির হানা। চিলেকোঠার ঘরে, নিশ্চুপে ― রঙিন ঠোঁটে ঠোঁটের সামিয়ানা; দুপুর কখন গড়িয়ে গেছে ডুবে, বুকের ভেতর প্রেমের হাপর টানা। চোখ বুজেও স্বপ্ন দেখে মন, আবোলতাবোল শব্দ বোনে নানা; দীঘির কালো জলে উচাটন - তোমার, আমার ঘুম পাওয়া আজ মানা। 

নতুন আলো

ব্লগ : ১ জানালা দিয়ে রাস্তায় চোখ পড়ল বিভার। পাড়ার কয়েকটা ছেলেমেয়ে ফুলঝুরি আর রংমশাল জ্বালতে ব‍্যস্ত। চারদিকে আলোর রোশনাই এর মাঝে ওদের মুখে হাসির ঝলকানিতে যেন পরিবেশটা আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। দীর্ঘশ্বাস ফেলে জানালা থেকে সরে এল সে। ফ্রিজ় খুলে সবজি বের করে রান্নায় মন দিল। গত কয়েক বছর ধরে এই রুটিনেই তার জীবন চলছে। চাকরি পেয়ে বাড়ি থেকে দূরে চলে আসা, তারপর ফ্ল‍্যাট ভাড়া নিয়ে নিজের মতো একার সংসার গোছানো। উৎসবের মরশুমে একা লাগে ঠিকই, কিন্তু মানিয়ে নিতে হয়। রান্না সেরে খেয়ে নেয়। এরপরের সঙ্গী তো ওয়েব সিরিজ আছেই, নাহলে গল্পের বই, ম‍্যাগাজিন ইত্যাদি। অন‍্য দিন অফিসের কাজেই সারাদিন চোখের পলকে কেটে যায়। এসব ছুটির দিন এলে তাই যেন সময় তার কাটতেই চায় না। বিভার বয়স ত্রিশের ঘর পেরোব পেরোব করছে। বাড়ি থেকে হালকা বিয়ের চাপ যে আসছে না, তা নয়। তবুও তার যেন মনেহয় বিয়ে করার জন্য উপযুক্ত সঙ্গী এখনও সে পায়নি। অনেক সম্বন্ধ দেখা হয়েছে, তার মতো দক্ষ, বুদ্ধিমতী ফাইন‍্যানশিয়াল অ্যাডভাইজার-কে অর্ধাঙ্গিনী বানানোর সুযোগও অনেকেই হাতছাড়া করতে চায়নি। কিন্তু বিভা তাদের কারুর সঙ্গেই নিজেকে একাত্ম করার কথা ভাবতে পারেনি। কোথাও ...